রমযানুল মুবারকের সিয়াম সংক্রান্ত আহকাম ও মাসায়েল — হাদীসে নববী, আসারে সাহাবা ও ফিকহে হানাফীর আলোকে একটি পরিপূর্ণ পর্যালোচনা

প্রতিটি আকিল-বালিগ সুস্থ মুসলিম নর-নারীর উপর রমযানের সিয়াম ফরয — এটা কুরআনুল কারীমের সুস্পষ্ট নস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারায় ইরশাদ করেছেন, "ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহরা ফালইয়াসুমহু" — অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে সে যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে। এই ফরযিয়াতের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মাসআলা, যেগুলো জানা প্রত্যেক রোযাদারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রমযানের চাঁদ দেখা ও সিয়াম শুরুর বিধান: শাবান মাসের উনত্রিশ তারিখ দিবাগত সন্ধ্যায় হিলাল দেখা গেলে পরদিন থেকে সিয়াম ফরয হয়ে যায়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বলেছেন — চাঁদ না দেখে রোযা শুরু করো না, আবার শাওয়ালের চাঁদ না দেখে রোযা বন্ধও করো না। যদি শাবানের উনত্রিশে চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে শাবান ত্রিশ দিন পূর্ণ করে তারপর সিয়াম শুরু করবে — এটাই সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি। আকাশ মেঘলা থাকলে একজন আদিল অর্থাৎ দ্বীনদার ব্যক্তির সাক্ষ্যই যথেষ্ট, যেমনটা হাদীসে এসেছে যে এক মরুবাসী ব্যক্তির একক সাক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আকাশ পরিষ্কার থাকলে একজনের খবরে নির্ভর করা যায় না, বরং এমন সংখ্যক লোকের সাক্ষ্য দরকার যাতে গালিবে যান অর্থাৎ প্রবল ধারণা জন্মে। আর কেউ যদি একাই চাঁদ দেখে কিন্তু তার সাক্ষ্য গৃহীত না হয়, তাহলে তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে রোযা রাখা মুস্তাহাব — তবে ওয়াজিব নয়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে এক ব্যক্তি এই পরিস্থিতিতে জামাআতের সাথে রোযা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার এই ফিকহী বিচক্ষণতার প্রশংসা করেছিলেন।

একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — শাবানের উনত্রিশ ও ত্রিশ তারিখে ইস্তিকবালে রমযান হিসেবে রোযা রাখা নিষিদ্ধ, না রমযানের নিয়তে না নফলের নিয়তে। তবে যদি কেউ আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট দিন যেমন সোমবার বা বৃহস্পতিবার নফল রোযা রেখে আসে, আর ঘটনাক্রমে সেই দিন শাবানের শেষ দুই দিনে পড়ে, তাহলে তার জন্য জায়েয — সহীহ বুখারীর হাদীসে এই রুখসতের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।

নিয়তের বিধান: সিয়ামের ভিত্তি হলো নিয়ত। "ইন্নামাল আ'মালু বিন্নিয়াত" — সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ফরয রোযার নিয়ত রাতেই করা উত্তম, কারণ উম্মুল মুমিনীন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসে এসেছে — যে ফজরের আগে নিয়ত বাঁধেনি, তার সিয়াম পরিপূর্ণ হয় না। তবে রাতে নিয়ত করতে না পারলে দিনে যাওয়ালের প্রায় এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নিয়ত করলেও ফরয রোযা সহীহ হয়ে যাবে — এটা হানাফী মাযহাবের মুফতা বিহী মাসআলা। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, পুরো রমযানের জন্য একবারে একটি সম্মিলিত নিয়ত যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি রোযার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ত করতে হবে — কারণ প্রতিটি সিয়াম একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। আর রাতে নিয়ত করার পরও সুবহে সাদিক পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক জায়েয — সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াত এর সুস্পষ্ট দলীল। নিয়তের সময় শুরু হয় পূর্বের দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে, সূর্যাস্তের আগে পরের দিনের নিয়ত করলে তা ধর্তব্য হবে না।

সাহরীর ফযীলত ও আদব: সাহরী খাওয়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন — "তাসাহহারু ফাইন্না ফিস সুহূরি বারাকাহ" — তোমরা সাহরী খাও, এতে বরকত আছে। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানিও যথেষ্ট। হাদীসে এসেছে, যারা সাহরী খায় তাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য দুআ করেন। সাহরীর সময় হলো শেষ রাত — সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম সাহরী দেরিতে খেতেন আর ইফতার তাড়াতাড়ি করতেন। তবে এতটা দেরি করা মাকরূহ যে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ইফতারের বিধান ও দুআ: সূর্যাস্তের সাথে সাথে বিলম্ব না করে ইফতার করা মুস্তাহাব — বুখারী শরীফের হাদীসে আছে, যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। মাগরিবের নামাযের আগেই ইফতার করে নেওয়া সুন্নত। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের আগে তাজা খেজুর দিয়ে, তা না পেলে শুকনা খেজুর দিয়ে, আর তাও না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করতেন। ইফতারের সময় দুআ কবুলের বিশেষ মুহূর্ত — তাই এ সময় বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দুআ করা উচিত। ইফতারের বিশেষ দুআগুলো হলো — "আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু" এবং ইফতারের পর — "যাহাবায যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।"

রোযা ভঙ্গের কারণসমূহ — যেখানে কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব: রমযানে ফরয রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করলে — বীর্যপাত হোক বা না হোক — স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হয়। বুখারী ও মুসলিমের প্রসিদ্ধ হাদীসে একজন সাহাবীর ঘটনা বর্ণিত আছে যিনি রোযায় সহবাস করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলে তাঁকে কাফফারার হুকুম দেওয়া হয়। তেমনি জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলেও কাযা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয় — ইমাম যুহরী রাহিমাহুল্লাহ এই মত ব্যক্ত করেছেন। বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা ইত্যাদি সেবন করলেও একই হুকুম। আর সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও আযান না হওয়া বা আলো পুরোপুরি না ছড়ানোর মিথ্যা অজুহাতে খানাপিনা চালিয়ে যাওয়াও কাযা-কাফফারা উভয়কে ওয়াজিব করে দেয়।

কাফফারার নিয়ম: কাফফারা হলো — একটি দাস মুক্ত করা, তা সম্ভব না হলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস অর্থাৎ ষাট দিন সিয়াম পালন করা, আর তাও সম্ভব না হলে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানো। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা শর্ত — মাঝে কোনো কারণে একদিনও ছুটে গেলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তবে মহিলাদের হায়েযের কারণে বিরতি হলে সেটা ক্ষমাযোগ্য, তাতে ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে না।

যেসব কারণে শুধু কাযা ওয়াজিব হয়: অযু-গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় পানি চলে গেলে রোযা ভেঙে যায় এবং শুধু কাযা করতে হয়। তাই রোযাদার ব্যক্তি নাকে গভীরভাবে পানি দেবে না এবং গড়গড়াসহ কুলি করবে না — হাদীসে এই নির্দেশনা স্পষ্ট। যা সাধারণত আহারযোগ্য নয় তা গিলে ফেললেও রোযা ভেঙে যায়। দাঁতের রক্ত থুথুর সমপরিমাণ বা বেশি হয়ে গলায় গেলে, হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে, মুখে আসা বমি ইচ্ছাকৃত গিলে ফেললে, হায়েয-নিফাস শুরু হলে — এসব ক্ষেত্রে রোযা ভেঙে যায় এবং কাযা করতে হয়। নাকে বা মলদ্বারে ওষুধ প্রবেশ করালেও একই হুকুম। ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিখ্যাত উক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য — "রোযা ভাঙে ভেতরে কিছু প্রবেশ করলে, বের হলে নয়।" সুবহে সাদিকের পর ভুল করে সাহরী খেলে বা সূর্যাস্তের আগে ইফতার করে ফেললেও রোযা নষ্ট হয় এবং কাযা জরুরি — উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমলে এমন ঘটনা ঘটেছিল এবং তিনি কাযার ফায়সালা দিয়েছিলেন।

যেসব কারণে রোযা ভাঙে না: এখানে অনেকের ভুল ধারণা আছে, তাই এই অংশটি বিশেষভাবে জানা দরকার। ভুলবশত পানাহার করলে রোযা নষ্ট হয় না — মুসলিম শরীফের হাদীস অনুযায়ী আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন, সে যেন রোযা পূর্ণ করে। চোখে সুরমা বা ওষুধ লাগালে, শরীরে বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে, নাপাক অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে, স্বপ্নদোষ হলে, অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, মশা-মাছি অনিচ্ছায় গলায় ঢুকলে, ধোঁয়া-ধুলো অনিচ্ছায় প্রবেশ করলে, শুধু যৌন চিন্তায় বীর্যপাত হলে, কোনো ক্রিয়াকর্ম ছাড়া দৃষ্টিপাতের কারণে বীর্যপাত হলে — এর কোনোটিতেই রোযা ভাঙে না। তবে কু-দৃষ্টি ও কুচিন্তা নিজেই গুনাহে কবীরা, রোযায় তো আরো ভয়াবহ। বীর্যপাত বা সহবাসের আশঙ্কা না থাকলে বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য স্ত্রীকে চুম্বন জায়েয — তবে তরুণদের এ থেকে বেঁচে থাকা উচিত, কারণ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবককে নিষেধ করেছেন আর বৃদ্ধকে অনুমতি দিয়েছেন। বেহুশ হয়ে গেলেও রোযা নষ্ট হয় না — ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল এর দলীল।

রোযা না রাখার অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ: মুসাফিরের জন্য সফরে রোযা না রাখার রুখসত আছে — তবে অতিরিক্ত কষ্ট না হলে রোযা রাখাই আফযল। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে রাখল সে উত্তম করল, আর যে রাখল না সে রুখসত নিল। তবে একবার সফরে রোযা রাখা শুরু করলে তা আর ভাঙা জায়েয নয়, ভাঙলে গুনাহগার হবে — তবে কাফফারা আসবে না, শুধু কাযা। মুসাফির দিনের বেলা মুকীম হলে বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে — রমযানের সম্মানে — তবে কাযা অবশ্যই করবে।

অসুস্থ ব্যক্তি যার রোগ রোযায় বাড়ে বা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, সে রোযা না রাখতে পারে। তবে এই আশঙ্কা হতে হবে প্রকৃত — হয় নিজের সুস্পষ্ট অভিজ্ঞতা থেকে, নয়তো কোনো অভিজ্ঞ দ্বীনদার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। গর্ভবতী নারী যদি নিজের বা সন্তানের প্রাণহানী বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কা করেন, তিনি রোযা রাখবেন না — পরে কাযা করবেন। দুগ্ধদানকারিনী মায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা — যদি রোযার কারণে শিশু দুধ না পায় এবং অন্য খাবারেও অভ্যস্ত না হয়। হাদীসে তিরমিযীতে এসেছে যে আল্লাহ তাআলা গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিনীর জন্য সিয়ামের হুকুম শিথিল করেছেন — তবে ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু স্পষ্ট করেছেন যে এঁরা ফিদয়া দেবেন না, বরং কাযা করবেন। হায়েয-নিফাস থেকে দিনের বেলা পবিত্র হলে বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব, তবে কাযা করতে হবে।

ফিদয়ার বিধান: যে বৃদ্ধ ব্যক্তি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতায় রোযা রাখতে পারেন না এবং ভবিষ্যতেও সক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই, কিংবা এমন স্থায়ী রোগী যার সুস্থতার আশা নেই — তাঁরা প্রতিটি রোযার পরিবর্তে ফিদয়া দেবেন। আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বার্ধক্যে এই আমল করেছিলেন। ফিদয়ার পরিমাণ হলো একজন মিসকীনকে দু'বেলা পেট ভরে খাওয়ানো, অথবা প্রায় পৌনে দুই কেজি গম বা তার মূল্য সাদাকা করা। রমযানের শুরুতেই পুরো মাসের ফিদয়া একসাথে আদায় করা জায়েয। একাধিক ফিদয়া একই মিসকীনকে দেওয়াও জায়েয। তবে মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিনী — এঁদের জন্য ফিদয়া নেই, বরং পরে কাযা করতে হবে। ওযরের হালতে মৃত্যু হলে কাযা বা ফিদয়া কিছুই ওয়াজিব হয় না, তবে ওযর শেষ হওয়ার পর যতদিন সময় পেয়েছে ততদিনের কাযা যিম্মায় আসবে এবং কাযা না করে মারা গেলে ফিদয়ার অসিয়ত করে যাওয়া জরুরি।

মাকরূহাত — যা রোযায় করা মাকরূহ: রোযাদারের জন্য কুলিতে গড়গড়া করা ও নাকের নরম অংশে পানি পৌঁছানো মাকরূহ। শিঙ্গা লাগানো বা এমন কোনো কাজ যাতে রোযাদার অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে তা মাকরূহ — আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই মর্মে স্পষ্ট বলেছেন যে শিঙ্গায় দোষ নেই, তবে দুর্বল হয়ে পড়লে মাকরূহ। ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত রক্ত বের করাও মাকরূহ যদি তাতে দুর্বলতা আসে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো — গীবত, গালাগালি, মিথ্যা, টিভি-সিনেমা দেখা, গান-বাদ্য শোনা এবং যেকোনো বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হলে রোযা মাকরূহে তাহরীমী হয়ে যায়। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রোযাদার যেন অশ্লীলতা ও হট্টগোলে লিপ্ত না হয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন — যে মিথ্যা ও গুনাহ ছাড়ে না, তার পানাহার থেকে বিরত থাকা আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য রাখে না।

যা রোযায় মাকরূহ নয়: প্রয়োজনে বাচ্চার জন্য খাদ্য চিবিয়ে দেওয়া — এতে দোষ নেই, তবে গলায় যেন কিছু না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সুরমা ব্যবহার, সুগন্ধি লাগানো — মাকরূহ নয়। আর মিসওয়াক করা তো রোযা অবস্থায়ও সুন্নত — এমনকি তাজা ডাল দিয়ে মিসওয়াক করাও মাকরূহ নয়। আমির ইবনে রবীয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোযায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছেন। হাসান বাসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন — মিসওয়াক তাহারাতের মাধ্যম, দিনের শুরুতেও করো শেষেও করো।

আমার মনে হয়, এই মাসায়েলগুলো জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য — কারণ ইলম ছাড়া আমল সহীহ হওয়া কঠিন। ফিকহে হানাফীর এই মাসায়েল যে কেউ গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন, প্রতিটি মাসআলার পেছনে কুরআন, সুন্নাহ ও আসারে সাহাবার মজবুত ভিত্তি রয়েছে। যারা মনে করেন হানাফী মাযহাবের মাসায়েল দলীলবিহীন — তাদের এই ভুল ধারণা দূর হওয়া উচিত। বাস্তবতা হলো, সাধারণ পাঠকের সুবিধার্থে ফিকহের প্রাথমিক কিতাবে দলীল উল্লেখ করা হয় না বলেই এই ভুল ধারণা তৈরি হয়। কিন্তু উসূলুল ফিকহ ও কাওয়ায়িদুল ফিকহের ইলম যার আছে, তিনি জানেন প্রতিটি মাসআলা কত সুদৃঢ় দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত।


লিখনে : নাবিউল হাসান 


{​Romjaner Rojar Niyom, Roza vanger karon​,Ramadan Masail Bangla,Sahri o Iftarer dua,রোজার নিয়ত ও মাসায়েল}