কিনুলি (Kinuli) চ্যাপ্টারের সমাধান করা প্রশ্ন-উত্তর
ক) নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
১। কিনুলি কে? গল্পের কথক কেন তাকে কিনুলি বলে ডাকতেন? উত্তর: কিনুলি হলো মস্কোর চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া একটি সিংহশানা।
গল্পের মূল রুশ ভাষায় 'কিনুলি' শব্দের অর্থ হলো 'পরিত্যক্ত'। যেহেতু শাবকটির মা তাকে জন্মের পর ত্যাগ করেছিল এবং তাকে দেখাশোনা করতে অস্বীকার করেছিল, তাই গল্পের কথক তাকে 'কিনুলি' বলে ডাকতেন।
২। সিংহী তার ছানাগুলোর সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করত? উত্তর: সিংহীটি তার ছানাগুলোর প্রতি অত্যন্ত উদাসীন ও নিষ্ঠুর আচরণ করত। সে তার ছানাগুলোকে দুধ খাওয়াতে অস্বীকার করেছিল এবং খাঁচার মধ্যে এমনভাবে ঘুরে বেড়াত যেন শাবকগুলো সেখানে নেই বা সে তাদের দেখতেই পাচ্ছে না।
৩। চতুর্থ ছানাটার কী হয়েছিল? গল্পের কথক তাকে বাঁচাবার জন্য কী করেছিলেন? উত্তর: সিংহীর চারটি ছানার মধ্যে প্রথম তিনটি অযত্নে মারা গিয়েছিল। চতুর্থ ছানাটি ছিল সবচেয়ে ছোট এবং ক্ষুধার্ত ও ঠান্ডায় সেটি মরণাপন্ন অবস্থায় ছিল।
কথক তাকে বাঁচানোর জন্য ঠিক সময়ে চিড়িয়াখানা থেকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। শাবকটির শরীর গরম করার জন্য তিনি উটপাখির খাঁচায় থাকা একটি ইনকিউবেটরের সাহায্য নেন এবং তাকে গরম কাপড়ের ওপর শুইয়ে রাখেন।
৪। "কালকে আসব একটা সিংহছানা নিয়ে।"—কে কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিল? সেই কথার প্রত্যুত্তরে কী ঘটল? উত্তর: গল্পের কথক তার বাড়িতে টেলিফোন করে এই কথাটি বলেছিলেন। তিনি যখন সিংহছানাটিকে বাঁচাতে চিড়িয়াখানায় রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন, তখন বাড়ির লোক যাতে দুশ্চিন্তা না করে, সেই প্রসঙ্গেই তিনি এ কথা জানান।
কথকের কথা শুনে তার মা আঁতকে ওঠেন। এমনকি প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন রিসিভার কেড়ে নিয়ে চিৎকার শুরু করেন যে, ফ্ল্যাটে সিংহ আনা উচিত নয় এবং তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করবেন।
৫। সিংহছানাটা হঠাৎ ছটফট করতে শুরু করল কেন? উত্তর: কথক যখন সিংহছানাটিকে কোটের ভেতরে নিয়ে ট্রামে করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন ট্রামের গতি অথবা কোটের ভেতরের লোমের আস্তরণের কারণে শাবকটির হয়তো তার মায়ের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই সে হঠাৎ অস্থির হয়ে ছটফট করতে শুরু করে।
৬। পুশকিন স্কোয়ারে পৌঁছোবার আগে কী কী ঘটল? ট্রামের কন্ডাক্টরকে কেন ছানাটাকে দেখাতে হল? উত্তর: পুশকিন স্কোয়ারে পৌঁছানোর আগে ট্রামের ভেতরে সিংহছানাটির চিৎকার শুনে যাত্রীরা অবাক হয়ে কথকের দিকে তাকাতে থাকেন। একজন যাত্রী কৌতূহলী হয়ে কথককে অনুসরণ করেন এবং শাবকটির অদ্ভুত চিৎকার সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।
ট্রাম থেকে নামার সময় কন্ডাক্টর অভিযোগ করেন যে তাকে কেন সিংহছানাটি দেখানো হয়নি, তাই বাধ্য হয়েই কথককে সেটি তাকে দেখাতে হয়।
৭। দোকানের মেয়েটি কেন সবগুলো নিপল গল্পের কথকের সামনে জড়ো করল? উত্তর: কথক যখন দোকানে সিংহছানাটির জন্য উপযুক্ত নরম নিপল খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন দোকানের মেয়েটি বিরক্ত হয়ে বলে যে নিপল পছন্দ করতে স্বয়ং মা-র আসা দরকার। এর উত্তরে কথক যখন শাবকটিকে বের করে দেখান এবং জানান যে এর মা খাঁচায় বন্দি এক সিংহী, তখন মেয়েটি অবাক ও উৎসাহিত হয়ে দোকানের সব নিপল কথকের সামনে এনে জড়ো করে।
৮। গল্পের কথক কিনুলিকে বাড়িতে এনে কীভাবে রাখলেন? উত্তর: কথক কিনুলিকে বাড়িতে এনে নিজের কোটের লোমের আস্তরণ ছিঁড়ে একটি সুটকেসের মধ্যে পেতে দিয়েছিলেন যাতে শাবকটি আরাম পায়। সেই সুটকেসের ভেতরে গরম জলের বোতল রাখা হয়েছিল যাতে শাবকটি তার মায়ের শরীরের ওম অনুভব করতে পারে।
৯। সিংহছানাটার বক্সে গরম জলের বোতল রাখা হল কেন? উত্তর: নবজাত শাবকদের শরীরের উত্তাপ বজায় রাখার জন্য সাধারণত মা প্রাণীরা তাদের নিজের শরীরের নিচে আগলে রাখে। কিনুলির যেহেতু মা ছিল না, তাই তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং তাকে মায়ের শরীরের উষ্ণতার অনুভূতি দিতে বক্সের ভেতর গরম জলের বোতল রাখা হয়েছিল।
১০। ঘরে একটা সিংহ রয়েছে—এই খবর জানার পর কী হল? উত্তর: খবরটি জানাজানি হতেই প্রচুর অপরিচিত মানুষ কৌতূহলী হয়ে কথকের দরজায় ভিড় করতে শুরু করেন। তারা শাবকটিকে দেখে অবাক হতেন এবং কথককে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিতেন যাতে বড় হয়ে সিংহটি তাকে আক্রমণ না করে।
১১। মাশার কেন সিংহছানাটাকে পছন্দ হয়নি? উত্তর: কথকের কাজের মেয়ে মাশার কাছে কিনুলি ছিল একটি আপদ। কারণ কিনুলিকে দেখতে আসা দর্শকদের জন্য তাকে বারবার দরজা খুলতে ও বন্ধ করতে হতো এবং তাকে ঘর পরিষ্কার রাখতে হিমশিম খেতে হতো।
১২। গল্পের কথকের ঘরটা কীভাবে নার্সারি আর ল্যাবরেটরির মাঝামাঝি হয়ে উঠল? উত্তর: কিনুলির পরিচর্যার জন্য ঘরে তুলা, ভ্যাসলিন, বরিক অ্যাসিড, রবার নিপল, পিচকারি ইত্যাদি নানা চিকিৎসাসামগ্রী এবং শিশুর লালন-পালনের জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকত। এই কারণেই ঘরটিকে নার্সারি এবং ল্যাবরেটরির সংমিশ্রণ বলে মনে হতো।
১৩। ছানাটাকে কী খাওয়ানো হত? উত্তর: ছানাটাকে প্রতি ঘন্টায় এক বোতল করে গরম দুধ খাওয়ানো হতো। দুধকে সিংহীর দুধের মতো ঘন করার জন্য তাতে পাতলা ক্রিম মেশানো হতো।
১৪। মাশার কোন্ বিষয়ে হুঁশ ছিল না? সে কী করত? উত্তর: কিনুলি যখন ঘুমাত, তখন সবাই নিঃশব্দে চলাফেরা করলেও মাশার এ বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। সে ইচ্ছে করেই সসপ্যান ঠুকে শব্দ করত এবং বিড়বিড় করে কিনুলিকে আপদ বলে গালমন্দ করত।
১৫। ছেলেমেয়েরা কীভাবে ছানাটার বিরূপ অবস্থাটা সামলাল? উত্তর: কথকের ছেলেমেয়েরা (তলিয়া, লিউনিয়া প্রমুখ) পালা করে কিনুলির কাছে বসে থাকত। তারা একটি তালিকা তৈরি করেছিল যাতে কিনুলি খাওয়ার পর চিৎকার করে অন্যদের বিরক্ত না করে। তারা এই কাজের জন্য খুব গর্ব বোধ করত।
১৬। গল্পের কথক কেন কুকুর খুঁজতে শুরু করেছিলেন? উত্তর: কিনুলি বড় হওয়ার সাথে সাথে তাকে একা সামলানো কথকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছিল। শাবকটির সার্বক্ষণিক সঙ্গী এবং তাকে শান্ত রাখার জন্য একজন মাতৃত্বসুলভ প্রাণীর প্রয়োজন ছিল, তাই তিনি একটি কুকুর খুঁজতে শুরু করেন।
১৭। পেরি কে? সে প্রথমটায় পালাতে চেয়েছিল কেন? উত্তর: পেরি ছিল চিড়িয়াখানার একটি শান্ত প্রকৃতির মেষপালক কুকুর।
পেরি আগে কখনো সিংহ দেখেনি, তাই প্রথমবার সিংহছানাটিকে দেখে সে ভয়ে গরগর করে উঠেছিল এবং ভয়ে পালাতে চেয়েছিল।
১৮। পেরির মধ্যে কীভাবে মাতৃত্ব জেগে উঠেছিল? উত্তর: যদিও পেরির নিজের কোনো ছানা ছিল না, তবুও ধীরে ধীরে কিনুলির প্রতি তার মায়া পড়ে যায়। সে কিনুলিকে চাটতে শুরু করে এবং তাকে আগলে রাখে। অপরিচিত কেউ এলে সে গর্জন করে কিনুলিকে রক্ষা করত—এভাবেই তার মধ্যে মাতৃত্ব জেগে ওঠে।
১৯। কিনুলি আর বাঁচবে না বলে গল্পের কথকের আর ভয় হত না কেন? উত্তর: কিনুলি যখন ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল, আলমারির ড্রয়ারে ঘুমানো শুরু করল এবং নিয়মিত খাবার খেয়ে সুস্থ হয়ে উঠল, তখন কথক বুঝলেন যে তার জীবনের সংকট কেটে গেছে।
২০। কতদিনে কিনুলির চোখ ফুটেছিল? সেগুলো দেখতে কেমন ছিল? উত্তর: ছয় দিন বয়সে কিনুলির চোখ ফুটেছিল। প্রথমে বাঁ চোখ এবং পরে ডান চোখ। তার চোখগুলো ছিল নীল রঙের, যা অনেকটা কাটা দাগের মতো এবং ঝাপসা দেখাত।
২১। কথককে চিনতে পেরে কিনুলি কী করত? উত্তর: কিনুলি কথককে খুব ভালোবাসত। সে যেখানেই থাকুক বা যার পাশেই থাকুক না কেন, কথক হাত বাড়ালেই সে সবকিছু ফেলে গুটিগুটি পায়ে তাঁর কাছে চলে আসত।
২২। "দেখো মা দেখো"—কে কেন একথা বলত? উত্তর: কথকের ছোট ছেলে তলিয়া একথা বলত। কিনুলি যখন আদর করে তলিয়ার আঙুল চাটত বা মাথা নাড়াত, তখন তলিয়া আনন্দিত হয়ে মাকে তা দেখাত।
২৩। ছানাটার নাম কিনুলি রাখায় তলিয়া আপত্তি জানিয়েছিল কেন? উত্তর: তলিয়া কিনুলিকে খুব ভালোবাসত। তার মনে হয়েছিল 'কিনুলি' (পরিত্যক্ত) নামটা খুব দুঃখের। সে শাবকটিকে 'মিয়াও-মিয়াও' বা তার নীল চোখের জন্য 'নীল চোখ' বলে ডাকতে চেয়েছিল।
২৪। ঘরের মধ্যে ঘোরাঘুরি করার সময় কিনুলির কী অবস্থা হত? উত্তর: ছোটবেলায় কিনুলির দৃষ্টিশক্তি খুব পরিষ্কার ছিল না, তাই সে ঘরের আসবাবপত্রের সাথে ধাক্কা খেত। চেয়ারের পায়ায় মাথা ঠুকলে সে বুঝতে পারত না কীভাবে ঘুরতে হবে, তাই খানিকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে আবার ফিরে আসত।
২৫। কিনুলি কীভাবে পড়ে যেত? উত্তর: কিনুলি হাঁসের মতো হেলেদুলে চলত। তার থাবাগুলো ছিল ভারী। সে যখন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেত, তখন পাশের দিকে না পড়ে যন্ত্রের পুতুলের মতো সোজা পিঠের ওপর উল্টে পড়ত।
গ) বিপরীত শব্দ লেখো:
- অস্বীকার — স্বীকার
- দুর্বল — সবল
- ধারালো — ভোঁতা
- মনোযোগ — অমনোযোগ
- আকর্ষণ — বিকর্ষণ
- তাড়াতাড়ি — ধীরে
- বড়োসড়ো — ছোটোখাটো
- সাবধান — অসাবধান
- পছন্দ — অপছন্দ
- পরিষ্কার — নোংরা
- নিস্তব্ধ — কোলাহলপূর্ণ
- করুণ — হৃষ্টপুষ্ট / আনন্দিত
- প্রথমটায় — শেষটায়
- গরম — ঠান্ডা
- ভয় — সাহস / নির্ভয়
- ঝাপসা — স্পষ্ট
- বাধা — অবাধ
ঘ) বন্ধনী থেকে উপযুক্ত সমার্থক শব্দটি নির্বাচন করে লেখো:
- ছানা — শাবক
- বাড়ি — আলয়
- লোক — মানুষ
- দোকান — আপন
- জন্তু — পশু
- লোম — রোম
- ঘা — ক্ষত
- বায়না — আবদার
চ) অশুদ্ধ বানানগুলি শুদ্ধ করো:
- শ্রিংহসানা — সিংহছানা
- চোতূর্থ — চতুর্থ
- দুরবল — দুর্বল
- উঠপাখী — উটপাখি
- রিছিবার — রিসিভার
- আকোরষন — আকর্ষণ
- শরবরাহ — সরবরাহ
- ওনাদূত — অনাহূত
- ঝিনিসপতত্তর — জিনিসপত্র
- নারছারি — নার্সারি
- লেবরেটোরি — ল্যাবরেটরি
- মেশপালোেক — মেষপালক
[Prepared By Nabiul Hasan]
